Tuesday, July 12, 2022

ত্বকে এলার্জি ও শরীরে এর প্রভাব

 


 

ত্বকে এলার্জি কোনো রোগ না। কিন্তু দেখা যায় ত্বকে এর প্রভাব অনেক বেশি। ত্বকে এলার্জি  কখনো কখনো এটি এমন সমস্যার সৃষ্টি করে যে, চুলকাতে চুলকাতে রক্ত বের হয় এমনকি  জ্বর পর্যন্ত হয়ে যায়। দেখা যায় প্রায় প্রত্যেকটি মানুষের চামড়ার এলার্জি রয়েছে কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটি প্রতিরোধ করার জন্য কোনো প্রতিকার গ্রহণ করেন না। অনেকেই জানেন না যে, ত্বকে এলার্জির সঠিক চিকিৎসা না করার কারণে তাদের ত্বক খুব খারাপ হতে পারে এবং ক্ষতির শিকার হতে পারে। তাই  ত্বকে এলার্জি, উপসর্গ এবং এগুলোর প্রতিরোধ করার উপায় সম্পর্কে  সাধারণ ধারণা থাকা দরকার।
যেভাবে এলার্জির সংবেদন হয়
অনেকেই ত্বকে এলার্জি দ্বারা আক্রান্ত হয়। এ কারণে দেখা যায় যার জন্য তাদের ত্বকে চুলকানির বদলে দাদ, ছোল, ফুসকুড়ি ইত্যাদি হয় এবং বিষয়গুলোকে সেভাবে গুরুত্ব  দেয়া হয় না, কিন্তু এর পরিণাম গভীর হতে পারে। যদি ঠিক সময় এ সমস্যার গুরুত্ব না দেওয়া হয় তাহলে নানান ত্বকের রোগ দেখা দিতে পারে। এগুলো ছাড়াও বহুবার প্লাস্টিকের ব্যাগের  কোনো দ্রব্য, পারফিউম, চশমা, সাবান ইত্যাদি থেকে এলার্জি হতে পারে। এলার্জি এই ধরনের কনটেক্ত ডার্মাইটিস বলা হয়।

বিজ্ঞাপন
সুতরাং জানা যাক এর লক্ষণ, কারণ এবং নির্মূল করার ঘরোয়া উপায়।
এলার্জির কিছু নির্দিষ্ট কারণ
 আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে নাকে এলার্জি হতে পারে
 বায়ু দূষণ
 ট্যাটুর প্রভাব
 শরীরের অনুপযুক্ত খাবার খাওয়া
 পরিচ্ছন্নতা
 সৌন্দর্যতার চুলের রঙ ব্যবহার করা
 কোনো ড্রাগ বা ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
 শুষ্ক ত্বকের কারণে ত্বক এলার্জি
 পোকামাকড় কামড়ালে
 প্রচণ্ড ঝাঁকুনি 
লক্ষণসমূহ
 ত্বক রঙ পরিবর্তন হওয়া,  যেমন লাল দাগ হওয়া
 চুলকানি হওয়া
 ব্রণের মতো  ফুসকুড়ি হওয়া
 জ্বালা জ্বালা করা
 ব্রণে পরিণত হওয়া
এলার্জি এড়ানোর জন্য কিছু  উপায়
 ঘরের বাইরে  বেরোনোর সময় মুখ এবং শরীরের অন্যান্য অংশ    কাপড় দিয়ে ঢেকে দিন। সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন ও ধুলোবালিমুক্ত থাকুন
 মুখ পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার রাখুন 
 অ্যালো ভেরাজেল বা অ্যালো থেকে তৈরি ক্রিম ব্যবহার করুন।
 চিকিৎসকের পরামর্শে মেডিকেটেড সাবান ব্যবহার করুন।
  ত্বক বেশি চুলকাবেন না।
  শরীরে খোলা বাতাস লাগান।
 সবচেয়ে আদর্শ উপায় হলো এলার্জি হওয়ার কারণ নির্ণয় করুণ এবং তা থেকে দূরে থাকুন।
গরুর মাংস খেলে যদি এলার্জি হয়
মাংসতে এলার্জি হওয়ার কারণ সমূহ হলো- ত্বকে ফুসকুড়ি হওয়া, পেট ব্যথা ও বদ হজম, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, হাঁপানি বা অনেকের এলার্জি থেকে শ্বাস কষ্ট দেখা। এসব কারণের জন্য কোরবানিতে মাংস খেতে পারবেন না তা কিন্তু না। বিশেষ করে মুসলমানরা কোরবানির  ঈদে  প্রচুর মাংস খান। কিন্তু যাদের মনে হয় গরুর মাংস খেলে এলার্জিজনিত সমস্যাটি বেড়ে যাচ্ছে তাদের একটু নিয়ম করে মাংস খেতে হবে। তাতে তেমন ক্ষতি হবে না। বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কিছু ওষুধ সংগ্রহে রাখতে হবে।  মাংস খেতে হবে অল্প পরিমাণে। এছাড়া লাল ও চর্বিযুক্ত মাংস খাওয়া  পরিহার করতে হবে। 
 

লেখক: চর্ম, অ্যালার্জি ও  যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ 
চেম্বার: আল-রাজী হাসপাতাল, ১২ ফার্মগেট, ঢাকা। মোবা-০১৭১৫-৬১৬২০০

 

পেশি কলার গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণে মাংস

 

 

 


 

 

কোরবানির মাংস (গরু/খাসি) মূলত রেড মিট। এগুলো সম্পূর্ণ প্রোটিন যা আমাদের প্রয়োজনীয় সব রকমের এমাইনো এসিড দেয় এবং আমাদের পেশি কলার গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১০০ গ্রাম মাংসে আছে ২৫০ ক্যালরি, ১৫ গ্রাম ফ্যাট ও ২৬ গ্রাম প্রোটিন। এছাড়াও এটি ভিটামিন বি কমপ্লেক্স বিশেষ করে ভিটামিন বি ১২, জিঙ্ক, আয়রন ও সেলেনিয়ামের অত্যন্ত ভালো উৎস।

রেড মিটের চর্বি বাদ দিয়ে রান্না করলে এর কোলেস্টেরলের পরিমাণ অনেকখানি কমিয়ে আনা যায়। তাই রান্নার আগে চর্বি কেটে ফেলে দিতে হবে।

এতে সোডিয়াম ও পটাশিয়াম উভয়ের পরিমাণই বেশি বলে হার্ট, হাইপ্রেসার, কিডনির রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ মেপে মাংস খাওয়া জরুরি। 
একবারে চর্বি ছাড়া ছোট টুকরার ৩-৪ টুকরা পর্যন্ত নেওয়া নিরাপদ।

যেহেতু প্রত্যেকের চাহিদা আলাদা তাই আপনার প্রয়োজনীয় পরিমাণ আপনার পুষ্টিবিদের কাছ থেকে জেনে নিন।

রান্নায় অতিরিক্ত মশলার ব্যবহারের জন্য হজমে সমস্যা, পেট ব্যথা, ডায়রিয়া হতে পারে। তাই অতিরিক্ত ঝাল, তেল, মশলা এড়িয়ে চলুন।

কিডনি রোগ ও উচ্চরক্তচাপ থাকলে মাংসে বাড়তি সস  ঘি, বাটারের ব্যবহার এড়িয়ে রান্নায় সাধারণ তেল ব্যবহার করুন।

মাংস প্রধানত প্রোটিনের উৎস, কিন্তু কলিজা, মগজ, ভুঁড়ি মূলত কোলেস্টরেলের ঘনীভূত উৎস। তাই এই অংশগুলো অল্প পরিমাণে খাওয়াই উত্তম। যাদের লিপিড প্রোফাইল হাই তারা এসব অংশ এড়িয়ে যাবেন।

মাংস রান্না বা সাইড ডিশ হিসেবে সবজি বা সালাদ যুক্ত করলে এর ফাইবার কোলেস্টেরলের সঙ্গে বাইন্ড করে এর অনেকটা অংশ শরীর থেকে বের করে দেয়। তাই প্রতি বেলায় সবজি বা সালাদ অন্তর্ভুক্ত রাখুন।

যারা বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন তারা নিজেরাই অনেক নিয়ন্ত্রণের মাঝে মাংস খেয়ে থাকেন, তবে সুস্থ ব্যক্তিরা এ বিষয়টি ততটা গুরুত্ব দেন না।

কিন্তু অতিরিক্ত রেড মিট ও অরগান মিট (কলিজা, মগজ, ভুড়ি ইত্যাদি) প্রেসার বাড়িয়ে দেয়, ওজন বাড়ায়, রক্তনালীতে ব্লক তৈরি করতে পারে, কিছু ক্যান্সার তৈরিতে ভূমিকা রাখে। তাই আপনি সুস্থ থাকলেও অতিরিক্ত পরিমাণে রেড মিট গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।

রেড মিটের আঁশ মোটা হওয়াতে এটা সহজপাচ্য নয় এবং এই জাতীয় মাংস কোষ্ঠকাঠিন্য সৃষ্টি করে তাই যাদের আগেই কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তারা অতিরিক্ত মাংস খাওয়া পরিহার করুন।

তবে যারা কম ওজনের আছেন বা প্রোটিন, আয়রন ইত্যাদির অভাবে ভুগছেন তারা কিন্তু নির্দ্বিধায় খেতে পারেন মজাদার এই রেড মিট।

ঈদুল আজহায় গরিব দুস্থ মানুষ মাংস পেয়ে থাকে যার ফলে তারা এই অত্যন্ত পুষ্টিকর প্রোটিনের উৎস পরিবারের সবাইকে নিয়ে গ্রহণ করতে পারে। তাই আপনি কোরবানি করে থাকলে আপনার আশপাশের গরিব মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ করে নেকি অর্জনের পাশাপাশি সুস্থ জাতি গঠনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন। 

আসুন পরিমিত পরিমাণে মাংস খেয়ে সুস্থ থাকি, ঈদে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালো থাকি।

 

যেসব রোগের কারণে হঠাৎ কমে যেতে পারে ওজন

 


 

 

সুস্থ থাকতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। অতিরিক্ত ওজন বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকেই বিভিন্ন নিয়ম, বিধিনিষেধ মেনে চলেন। অনেকেই নিয়মিত জিমে যান। নিয়ম মেনে পরিমিত খাওয়া-দাওয়া করেন। দৌড়ঝাঁপ, হাঁটাহাঁটি তো আছেই। অনেক চেষ্টা ও পরিশ্রম করে কমাতে হয় ওজন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় কোনও রকম পরিশ্রম ছাড়াই শরীরের ওজন কমে যাচ্ছে। অনিচ্ছাকৃত এই ওজন হ্রাস কিন্তু শরীরের জন্য একেবারেই ভাল নয়। কোনও কারণ ছাড়াই ওজন কমতে থাকলে, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

বয়স, খাদ্যের ধরন এবং শারীরিক গঠনের উপর একেক জনের ওজন নির্ভর করে। ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে যদি শরীরের ওজন কোনওরকম চেষ্টা ছাড়াই ৫ কেজি মতো কমে যায়, তাহলে বুঝতে হবে শরীরের ভেতরে কোনও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

যেসব কারণে হঠাৎ ওজন হ্রাস হতে পারে-

১. হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা

হৃদযন্ত্রের কোনও জটিলতা থাকলে শরীরে পেশি, চর্বি, হাড়-সহ প্রয়োজনীয় অনেক কিছুর ক্ষয় হয়। ফলে শরীরের ওজন কমতে থাকে।

২. ডিমেনশিয়া

ওজন কমার সঙ্গে ডিমেনশিয়ার একটি যোগসূত্র আছে। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ে খাওয়া-দাওয়াতেও। সঠিক সময়ে ও পরিমাণে খাওয়ার কথা মনে থাকে না। দীর্ঘ দিন ধরে এমন অনিয়ম চললে স্বাভাবিকভাবে ওজন কমবে। এছাড়াও ডিমেনশিয়ার ওষুধের প্রভাবেও হ্রাস পেতে পারে ওজন।

৩. ডায়াবেটিস

রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে কমতে পারে ওজন। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ওজন কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। ডায়াবেটিস মানে রক্তে ইনসুলিনের পরিমাণ কমে যাওয়া। ইনসুলিনের অভাবে শরীরের কোষগুলো নিজেদের সচল ও শক্তিশালী রাখতে পেশি ও চর্বির সাহায্য নেয়। ফলে শরীরের সামগ্রিক ওজন হ্রাস পায়।

 

মানসিক চাপ কমায় যেসব খাবার

 


 

 

মানসিক চাপ বা স্ট্রেস থেকে ভুলে যাওয়া, সহজেই রেগে যাওয়া, নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো, মনোযোগ কমে যাওয়া, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়া, মন খারাপ, উৎসাহ-উদ্দীপনা কমে যাওয়া ইত্যাদি নানা মনোসামাজিক সমস্যা হতে পারে। আবার নানা শারীরিক সমস্যাও হতে পারে। যেমন: মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড় হওয়া, দুর্বল লাগা, যৌনাকাঙ্ক্ষা ও যৌনশক্তি কমে যাওয়া, খিদে কমে যাওয়া বা কখনো খিদে বেড়ে যাওয়া, ঘুম কমে যাওয়া, ঘুম না আসা, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, হৃদপিণ্ডের উপর নেতিবাচক ইত্যাদি।

কিন্তু চাইলেই অনেক ক্ষেত্রে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস এড়ানো যায় না। তবে গবেষণা ধারণা দিচ্ছে যে, কিছু পুষ্টি স্ট্রেস হরমোন করটিসোল কমাতে পারে। অর্থাৎ সঠিক খাবার খেলে স্ট্রেস সম্পর্কিত উপসর্গ প্রশমিত হবে। এ প্রতিবেদনে মানসিক চাপ কমাতে সেরা কিছু খাবার তুলে ধরা হলো। 

স্যালমন মাছ: বিশেষজ্ঞরা স্ট্রেস কমানোর সেরা খাবারের তালিকায় স্যালমনকে উপরের দিকে রেখেছেন। কানাডার রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ান শাহজাদি দেবজি বলেন, ‘স্যালমন মাছের ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিডে বিদ্যমান প্রদাহনাশক শক্তি স্ট্রেস হরমোনের প্রতিক্রিয়া দমাতে পারে।’ এর মানে এটা নয় যে, আজ রাতে স্যালমন খেলে সকালে মেজাজটা ফুরফুরা হয়ে যাবে। বরং লং-টার্ম স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের কথা মাথায় রেখে নিয়মিত স্যালমন খেয়ে যেতে হবে।

ঢেঁড়স: এই সবুজ সবজিতে বি ভিটামিন ফোলেট রয়েছে। এই বি ভিটামিনটি সুখের হরমোন ডোপামিন উৎপাদন করে। স্ট্রেস কমাতে গবেষকরা ফোলেট সমৃদ্ধ খাবার (যেমন- ঢেঁড়স) খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ডার্ক চকলেট: ডার্ক চকলেট সুলভ নয় বলে অনেকেই ইচ্ছে সত্ত্বেও নিয়মিত খেতে পারেন না। তবে চকলেটটি খেলে পয়সা উসুল হবেই! কারণ এটা বিস্ময়কর উপকার করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ডার্ক চকলেট মানসিক চাপ কমিয়ে মুখে হাসি ফোটাতে পারে। ডা. শাহজাদি বলেন, ‘কোকোয়া সমৃদ্ধ ডার্ক চকলেটের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তনালীকে শিথিল করতে পারে। এর ফলে রক্তচাপ কমে ও রক্ত সংবহন বাড়ে।’

পালংশাক: স্ট্রেসে আচ্ছন্ন হলে আমাদের পেশির অনমনীয়তা বাড়তে থাকে। আমরা স্পষ্টভাবে চিন্তা করতে পারি না।ঘুমাতে সমস্যা হয় ও রক্তচাপ বেড়ে যায়। একটি পুষ্টি এসব উপসর্গ প্রশমিত করতে পারে- তা হলো ম্যাগনেসিয়াম। গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক চাপে ভুগলে ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা কমতে থাকে। তাই মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। পালংশাকের মতো গাঢ় সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজিতে উচ্চ পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি রয়েছে।

গ্রিন টি: মানসিক চাপ কমাতে গ্রিন টি কার্যকর পানীয়। বায়োলজিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিটিউক্যাল বুলেটিনে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, লো ক্যাফেইন গ্রিন টি মনকে প্রশান্ত করতে পারে।

কমলা: কেবল কমলা খেলে নয়, এর খোসা ছাড়ালেও মানসিক চাপ কমে! কমলা ও অন্যান্য সাইট্রাস ফলে বি ভিটামিনের প্রাকৃতিক ধরন মায়োইনোসিটল থাকে। আমাদের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রে উচ্চ মাত্রায় মায়োইনোসিটল আছে। কোষঝিল্লি, পেশি ও স্নায়ুর কার্যক্রম মায়োইনোসিটলের ওপর নির্ভরশীল। মায়োইনোসিটল আবেগ ও মেজাজ তথা মানসিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই শরীরে এর পর্যাপ্ততা বজায় রাখতে নিয়মিত সাইট্রাস ফল খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

গাজর: যুক্তরাষ্ট্রের রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ান মান্ডি এনরাইটের মতে, স্ট্রেস কমানোর অন্যতম সেরা খাবার হলো, গাজরের মতো মচমচে সবজি। মচমচে ফলও খেতে পারেন, যেমন- আপেল। মচমচে শব্দ এক ধরনের স্বস্তি দিয়ে থাকে। এসব খাবার চাবানোর সময় মচমচে শব্দের প্রতি মনোযোগ আসে বলে মানসিক চাপ কমে যায়। মচমচে খাবার খেলে চোয়ালের সংকোচনও কমে। উল্লেখ্য যে, প্রচুর মানসিক চাপে চোয়ালের সংকোচন বেড়ে যায়।

 

যে ৫ উপায়ে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন থাইরয়েডের সমস্যা

 


  থাইরয়েডের সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। থাইরয়েড আমাদের শরীরে গলায় অবস্থান করে। এটি দেখতে অনেকটা প্রজাপতির মতো। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি হরমোন তৈরি হয়। আর যখন থাইরয়েডে হরমোনগুলো অস্বাভাবিক উৎপাদন হয়ে থাকে, তখনই সমস্যার সৃষ্টি হয়।

সাধারণত দুই ধরনের থাইরয়েড সমস্যা দেখা যায়। হাইপারথাইরয়েডিজম ও হাইপোথাইরয়েডিজম। থাইরয়েড গ্রন্থিতে অতিরিক্ত হরমোন তৈরি হলে তাকে হাইপারথাইরয়েডিজম বলে। আর পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি না হলে তাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলে। তবে ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করলেই রেহাই পাবেন এই সমস্যা থেকে-

১) যদি ডায়েট করে থাকেন তাহলে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যুক্ত ফল ও শাক-সবজি খান। কারণ এইগুলো থাইরয়েডের সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও ভিটামিন-বি ১২ যুক্ত খাবার থাইরয়েড গ্রন্থিকে সঠিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করে।

২) প্রতিদিনের খাবারে আয়রন কম পরিমাণে থাকলেও থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই খাবারের তালিকায় রাখুন আয়রনযুক্ত খাবার।

৩) যখন আমাদের দেহে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়োডিন থাকে না, তখন থাইরয়েড হরমোন তৈরি করতে পারে না। যা হাইপোথাইরয়েডিজমের দিকে পরিচালিত হয়। তাই আয়োডিন যুক্ত খাবার খান।

৪) মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত শরীরচর্চা করুন। এর ফলে থাইরয়েডের সমস্যা কম থাকে।

৫) যোগ ব্যায়াম ও ধ্যান থাইরয়েড গ্রন্থিতে রক্ত প্রবাহকে সঠিক রাখে।


 

প্রতিদিন সকালে এক কাপ লাল চায়ের এত গুণ!

 


 

হালকা লিকার চা দিয়ে দিন শুরু করে আরাম পাওয়া যায় বেশ। কিন্তু এই পানীয় কি শরীরের জন্য ভাল? না কি প্রতিদিন চা পান করলে ক্ষতি হতে পারে শরীরের?

চা খাওয়া নিয়ে নানাজনের নানা মত থাকে। কেউ বলেন, চা খেলে ক্ষতি হবে। কেউ বা বলেন বিশেষভাবে চা খেতে হবে।

কিন্তু প্রতিদিন সকালে যদি এক কাপ লাল চা, তাতে শর্করা না মিশিয়ে পান করলে কী লাভ হতে পারে?

১. সকাল যদি শুরু করা যায় এক কাপ চা দিয়ে, তবে শরীর আর্দ্র থাকবে। সারাদিন অনেক খাটনিও গায়ে লাগবে না।
২. নানা ধরনের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট আছে এই পানীয়তে। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাই সাহায্য করে লাল চা।
৩. খালি পেটে চা খেলে আরও একটি উপকার হয় শরীরের। খাদ্যানালীতে জমে থাকা সব ধরনের ব্যাক্টেরিয়া দূর হয়।
৪. হার্টের সমস্যায় যারা ভুগছেন, তাদের জন্য বেশ কার্যকর এই পানীয়। সকালে এক কাপ লাল চা নানাভাবে যত্ন নেয় হৃদযন্ত্রের।
৫. বর্ষায় গলাব্যথা, সর্দি অনেকের লেগেই থাকে। সকালে এক কাপ গরম চা গলায় আরাম দেবে।
৬. বৃষ্টিভেজা সকালে কাজ করার ইচ্ছাও কম থাকে। কিন্তু সকালে এক কাপ চা সতেজ করে শরীর-মন। এতে কাজের ক্ষেত্রে সাহায্য হয়।


 

পান্তায় বহু উপকার

 


 পান্তা ভাত অনেকেই খেয়ে থাকেন। খাবারটি গ্রীষ্মের জন্য উপযুক্ত। কারণ, এটি পাচনতন্ত্রকে ঠান্ডা করে এবং শরীরকে তাপ থেকে রক্ষা করে। আলু ভাজা, কাঁচা লঙ্কা, পিয়াজ, লেবু, মাছ ভাজা, পাঁপড় এবং পোঁড়ানো শুকনো লঙ্কা- বাড়িতে যা-ই থাকুক না কেন, তাই দিয়েই জমে যায় পান্তা। 

পান্তায় প্রচুর পরিমাণে শর্ট চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তা করে। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে, যা হাড়কে মজবুত করতে সাহায্য করে।

পান্তায় প্রচুর আয়রন থাকে। এটি শরীরে রক্ত ​​বৃদ্ধি করে রক্তাল্পতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, পান্তা ভাতে সাধারণ ভাতের চেয়ে অনেক বেশি পুষ্টিগুণ রয়েছে। হজম করাও সহজ।

পান্তা ভাতে মেটাবোলাইট আইসোরহ্যামনেটিন-সেভেন-গ্লুকোসাইড পাওয়া যায়। এটি ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।